দৈনিক গৌড় বাংলা

মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি, দুপুর ১২:৩২

হাসিব হোসেন

বছরঘুরে আবারো বলতে হচ্ছে, বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সংবাদপত্রশিল্পে দৈনিক গৌড় বাংলা আপন মহিমায় আরো একটি বছর পার করে ফেলল। আজ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ দশ বছরে পদার্পণ করল পাঠকপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক গৌড় বাংলা। সফলভাবে ৯টি বছর অতিক্রম করতে পারার মূল কারিগর এর প্রতিনিধি, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, পত্রিকা বিক্রেতা, শুভানুধ্যায়ী ও শুভাকাক্সক্ষীরা। তাদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা না থাকলে এ পথ অতিক্রম করা সহজ হতো না।
৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্রের আয়োজন করা হয়েছে। এবার লক্ষ্য ছিল, ক্রোড়পত্রে পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপন করার। সে লক্ষ্য শতভাগ পূরণ করতে পেরেছি, তা বলা যাবে না। কেননা সময়ের সীমাবদ্ধতা ও আরো অন্যান্য কারণে তা পেরে উঠা যায়নি। তবে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি, আগামীতে অবশ্যই পুরোপুরি চেষ্টা থাকবে। তবুও এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারি যে, যেটুকু হয়েছে তা প্রত্যেকের কাছে ভালো লাগার একটি সংখ্যা হবে।
বিশেষ ক্রোড়পত্রে যাঁরা লেখা দিয়েছেন, তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এর আগেও তাঁরাসহ আরো অনেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ লেখা দিয়ে গৌড় বাংলাকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন।
কৃতজ্ঞতাপূর্ণ ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নাচোলের কৃতী সন্তান আলপ্তগীন তুষারকে। তাঁর আঁকা শিল্পকর্ম দিয়ে ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ ক্রোড়পত্রের প্রচ্ছদ করা হয়েছে। গৌড় বাংলা তাঁর শিল্পকর্ম দিয়ে প্রচ্ছদ করতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছে।
ঐতিহাসিক জনপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অন্যান্য পত্রিকার পাশাপাশি ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি পথচলা শুরু করে গৌড় বাংলা। অনেক যত্নে গড়া সেদিনের গৌড় বাংলা ৯টি বছর পার করে ফেলল, এ বড় পরম তৃপ্তিÑ এই সময়ের প্রেক্ষাপটে। এই কারণে যে, মূল্যবৃদ্ধির চাপে, বিশেষ করে কাগজসহ ছাপাসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক অন্যান্য কিছুর দাম বৃদ্ধিতে ব্যয়বহুল প্রকাশনা শিল্প নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। তবে সেসবকে উপেক্ষা করে বিবেকের তাড়নায় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জকে সর্বত্র তুলে ধরার প্রয়াসে এই অসাধ্য কাজটিও চালিয়ে যাচ্ছে গৌড় বাংলা।
বয়স হিসেবে ৯ বছর খুব কমও নয়, আবার খুব বেশিও নয়; বিশেষত পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে। তবে এটা অনস্বীকার্য যে, এই সময়ে আমরা পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি, শুধুমাত্র আমাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্যনিরপেক্ষতার কারণে। আমাদের পরিবেশিত সংবাদে চাকচিক্য না থাকলেও তথ্যনিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে সবসময়, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে। এই ৯ বছরের পথচলাতে এই মন্ত্র আমাদের সর্বদাই জাগ্রত করেছে। আর তাই তো দৈনিক গৌড় বাংলা জেলার অনেক মানুষের ‘জীবনের কথা সময়ের সঙ্গী’ হয়ে উঠেছে।
একটি দৈনিক পত্রিকার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস তার পাঠককুল। আরো একটি শক্তি বিজ্ঞাপন। এ দুটো বিষয়ই পত্রিকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞাপনই পত্রিকার অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করে। কিন্তু এ কথা বলাই যেতে পারে যে, বিজ্ঞাপনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গৌড় বাংলা শুধুমাত্র পাঠকের ভালোবাসাতেই ৯টি বছর নিয়মিত প্রকাশ হয়ে আসছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, সেসব শুভানুধ্যায়ীদের; যাঁরা গৌড় বাংলার পথচলার ৯ বছরে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের নিজের, প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের প্রকাশনা টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেছেন। আশা রাখছি, আমাদের প্রতি পাঠকের ভালোবাসা, আস্থা আগামীতেও থাকবে এবং পাঠকসংখ্যা অতীতকে ছাড়িয়ে যাবে। সেই সঙ্গে পুরোনোদের সঙ্গে নতুন করে আরো শুভানুধ্যায়ীদের আমাদের পাশে পাবো, বিজ্ঞাপন দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। পাশাপাশি আন্তরিক শুভেচ্ছাসহ ধন্যবাদ জানাচ্ছি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে।
একটি পত্রিকা একটি পরিবারের মতো। এর শাখা-প্রশাখাও আছে। কেউ সংবাদ পাঠাচ্ছেন, কেউ তা সম্পাদনা করছেন এবং কেউ তা পৃষ্ঠাসজ্জা অর্থাৎ মেকআপ করছেন। প্রত্যেকেই গৌড় বাংলাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাই গৌড় বাংলার ১০ম বছরে পদার্পণের এই দিনে সকল প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আবারো জানাচ্ছি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
পরিশেষে গৌড় বাংলার ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই পরিবারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী, এজেন্ট ও পত্রিকা বিক্রেতাদেরও প্রতি রইল আন্তরিক ভালোবাসা ও অভিনন্দন। আর অন্তরের অন্তস্তল থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি গৌড় বাংলার অগণিত পাঠকদের।

About The Author